সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্পর্শানুভূতি- ভালোলাগায়, ভালোবাসায়, নিরাপত্তায়

 

স্পর্শানুভূতি- ভালোলাগায়, ভালোবাসায়, নিরাপত্তায়

     চোখ, নাক, কান, জিহ্বা ও ত্বক এই পাঁচটি কে একত্রে বলে পঞ্চেন্দ্রিয়। চোখ আমাদের দৃশ্যানুভূতি, নাক ঘ্রাণানুভূতি, কান শ্রবণানুভূতি, জিহ্বা স্বাদানুভূতি এবং ত্বক স্পর্শানুভূতি দেয়। এছাড়া যা দেখা যায় না, ছোঁয়াও যায় না কিংবা অনুভব করা যায় না, কেবল পূর্বাভিজ্ঞতা বা জ্ঞান এর সাহায্যে পূর্বানুমান, পরিকল্পনা, ভবিষ্যদ্বাণী ইত্যাদি করা হয় যে ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে, তা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় নামে পরিচিত (যদিও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের বাস্তবতা নিয়ে অনেক দ্বিধা রয়েছে)। মস্তিষ্ক (Brain- Central Nourvous System, CNS) হল কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র যা ইন্দ্রিয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। পঞ্চেন্দ্রিয়ের একটি ত্বক, যা মানবদেহের বৃহত্তম অঙ্গ এবং ত্বকই সৃষ্টি করে স্পর্শানুভূতি। এই স্পর্শানুভূতিকে ব্যবহার করে প্রযুক্তিগত উন্নয়নও  কম হয়নি। তাহলে এই স্পর্শানুভূতি কী, কীভাবে জাগ্রত হয়, কী কাজ, প্রযুক্তিতেই বা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

 

    অনুভূতি বা Feelings কী? দেহ বা মনে সংবেদন সৃষ্টি হওয়াকে বলা হয় অনুভূতি। অনুভূতি শারীরিক বা মানসিক দুই ধরনের হয়। স্পর্শ অর্থ ত্বকের অনুভব শক্তি, ছোঁয়া বা সংলগ্ন ভাব। স্পর্শের দ্বারা ঠান্ডা, গরম কিংবা ব্যথা, আরামের অনুভব করা, শারীরিক অনুভূতি। স্পর্শ দ্বারা সৃষ্ট অনুভূতিই স্পর্শানুভূতি। স্পর্শ মানব জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা জন্মের পর শিশুর ইন্দ্রিয় প্রথম সাড়া দেয় অন্যের স্পর্শে। এই স্পর্শই মা ও শিশুর সম্পর্ক উন্নত করে। স্পর্শ শিশুর মধ্যে নিরাপত্তা অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এই নিরাপত্তা অনুভূতি বৃদ্ধ হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে। স্পর্শের মাধ্যমে আমরা সামাজিক হই, রোমান্টিক হই। গবেষণায় দেখা গেছে, স্পর্শের ফলে শরীরের পিটুইটারি গ্রন্থি হতে অক্সিটোসিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি 'লাভ' বা 'কাডল' হরমোন নামে পরিচিত। প্রতিদিনের স্পর্শ অর্গাজমের সময় কিংবা শিশুর জন্মদানের সময় এই হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি মানুষের আকর্ষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মনস্তাত্ত্বিক স্থায়িত্ব, বিশ্বাস এবং বিনোদনের মাত্রা উন্নয়নে ভূমিকা রাখে অক্সিটোসিন । এই হরমোন উদ্বেগ ও চাপ কমাতেও সাহায্য করে। এজন্যই স্নেহ, ভালোবাসা, দোয়া-আশীর্বাদ কিংবা আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করতে স্পর্শ করার প্রবণতা মানুষের মধ্যে দেখা যায়। যেমন, গুরুজন গায়ে বা মাথায় হাত দিয়ে দোয়া-আশীর্বাদ করেন, বন্ধু বা পরিচিত কেউ হতাশা বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে গায়ে হাত দিয়ে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়। প্রেয়সী বা সহযোদ্ধার সাথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতেও হাতে হাত রাখা হয়। প্রযুক্তিকে আরো সুবিধাজনকভাবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও স্পর্শকে এই কাজে লাগিয়ে টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির আবির্ভাব হয়। সুতরাং স্পর্শানুভূতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্পর্শানুভূতি ত্বক দ্বারা সৃষ্টি হয় সুতরাং স্পর্শ অনুভূতি কিভাবে জাগ্রত হয়- তা বুঝতে গেলে ত্বকের গঠন এবং ত্বকের সাথে স্নায়ুর সম্পর্ক বুঝতে হবে। 

 

    হঠাৎ আঙুলে সূঁচ ফুঁটলে বা কাটা বিঁধলে আমরা তৎক্ষণাৎ সতর্ক হয়ে আঙুল সরিয়ে নেই। আঙুলে সুঁচ ফুঁটার সময় ত্বকে

অবস্থিত সংবেদী নিউরন ব্যথার উদ্দীপনা গ্রহণ করে। এখানে ত্বক গ্রাহক হিসেবে কাজ করে। ত্বক মানব দেহের সবচেয়ে বৃহত্তম অঙ্গ। আমাদের সমস্ত শরীর ত্বক দ্বারা আবৃত। ত্বকের দুটি স্তর এপিডার্মিস (Epidermis) ও ডার্মিস (Darmis)। এপিডার্মিস হলো ত্বকের উপরিভাগের পাতলা অংশ। এটি পাঁচ স্তর কোষের সমন্বয়ে গঠিত। এখানে স্নায়ু বা রক্তনালী থাকেনা । তবে ঘাম গ্রন্থি, তৈলগ্রন্থি ইত্যাদির মুখ এখানে শেষ হয়। লোম বা চুলের  উপরিভাগ এখান দিয়ে বের হয়। এটি স্তরীভূত আবরণী কলা দ্বারা আবৃত থাকে। এর ফলে বাইরের ঘর্ষণ থেকে অভ্যন্তরের অংশগুলো রক্ষা পায় । আর ডারমিস হলো ত্বকের ভেতরের অংশের নাম। এখানে এসে স্নায়ু শেষ হয়। রক্তনালী, ঘামগ্রন্থি, তৈলগ্রন্থি বা সেবাসিয়াস গ্রন্থি, চুল বা লোমের গোড়া ইত্যাদি এখানে অবস্থিত। এখানে কিছু ঐচ্ছিক পেশী থাকে। ঐচ্ছিক পেশী বলতে যে সকল পেশী প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। ত্বকের এসকল ঐচ্ছিক পেশী চুলের উপরিভাগকে প্রয়োজন অনুসারে খাড়া করে (যেমন ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয়)। ত্বকের কাজ হলো প্রতিরক্ষা করা, তাপের ভারসাম্য বজায় রাখা, বর্জ্য পদার্থ ঘামের সাথে বের করে দেওয়া, আর্দ্রতা রক্ষা করে রোগ জীবাণু ধ্বংসে সহায়তা করা এবং যেহেতু স্নায়ু কোষ এখানেই শেষ হয় তাই বাইরের পরিবেশের পরিবর্তন বা শরীরের স্পর্শ বা অনুভূতি সেখান থেকেই মস্তিষ্কে যায়। এভাবে ত্বক গ্রাহক (receptor) হিসেবেও কাজ করে।
স্নায়ুতন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গ এবং তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় করে, দেহের বিভিন্ন অংশে উদ্দীপনা বহন করে এবং দেহের উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে। স্নায়ুতন্ত্রের দুটি অংশ- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রেও আবার দুটি অংশ- মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকাণ্ড। স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যকরী এককের নাম নিউরন। মস্তিষ্কে মোট ১০ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি স্নায়ুকোষ বা নিউরন থাকে। এগুলো বৈদ্যুতিক সংকেতের আকারে সংবাদ অনুভূতি বা উদ্দীপনা পরবহন করে। নিউরন দুটি অংশ থাকে- কোষদেহ এবং  প্রলম্বিত অংশ। প্রলম্বিত অংশেরও আবার দুটি অংশ- অ্যাক্সন ও ডেনড্রন। বহুসংখ্যক অ্যাক্সন ও  ডেনড্রাইট (ডেনড্রাইট হলো ডেনড্রন হতে উৎপন্ন শাখা-প্রশাখা) মিলিত হয়ে স্নায়ু গঠন করে। একটি নিউরনের




অ্যাক্সনের টার্মিনালের সাথে দ্বিতীয় একটি নিউরনের ডেনড্রাইটের সংযোগস্থলকে 'সিন্যাপস' বলে। প্রতিটি নিউরন অন্য ৭ থেকে ১০ হাজার নিউরনের সাথে সিন্যাপস সংযোগ করে থাকে। নিউরনের প্রধান কাজ উদ্দীপনা বহন করা। অনুভূতিবাহী বা সংবেদী নিউরন গ্রাহক অঙ্গ থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এবং মোটর বা আজ্ঞাবাহী নিউরন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে কার্যকরী উদ্দীপনা প্রেরণ করে। অ্যাক্সন টার্মিনাল সিন্যাপস এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে স্নায়ুতাড়না প্রবাহিত হয়। পরিবেশ থেকে যে সংকেত স্নায়ুর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছে তাকে স্নায়ুতাড়না বা উদ্দীপনা বলে। পরস্পর সংযুক্ত অসংখ্য নিউরন তন্তুর ভিতর দিয়ে উদ্দীপনা শেষ পর্যন্ত মস্তিষ্কে পৌঁছায়। এর গতিবেগ প্রায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার (স্নায়ুভেদে তারতম্য হতে পারে)। গ্রাহক অঙ্গ থেকে স্নায়ুতাড়না মস্তিষ্কে পৌঁছানোর পর নিউরনের কার্যকারিতার ফলে প্রয়োজনীয় সাড়া পুনরায় প্রয়োজনীয় অঙ্গগুলোতে সঞ্চালিত হয়। ফলে দেহের মাংসপেশী সংকুচিত হয়ে সাড়া দেয়। অনুভূতিবাহী স্নায়ু উত্তেজিত হলে সেই উত্তেজনা মস্তিষ্কে পৌঁছানোর মাধ্যমে যন্ত্রণাবোধ, স্পর্শ জ্ঞান, দর্শন এ ধরনের অনুভূতি উপলব্ধি করায়। নির্দিষ্ট উত্তেজনার প্রভাবে প্রাণীদেহে যে তাৎক্ষণিক স্বতঃস্ফূর্ত এবং অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex Action) বলে। যেমন, হাতে কাটা বিঁধলে, আমরা দ্রুত সেখান হতে হাত সরিয়ে নিই। এক্ষেত্রে স্নায়ুর গ্রাহকপ্রান্তের উদ্দীপক হলো কাঁটা। গৃহীত উদ্দীপনা অনুভূতিবাহী


স্নায়ুতন্তুর মাধ্যমে মেরুরজ্জুতে (Spinal cord এ) পৌঁছে। ওই একই উদ্দীপনা স্নায়ুকোষ থেকে আজ্ঞাবাহী স্নায়ুতে প্রবাহিত হয়। স্নায়ু উদ্দীপনা আজ্ঞাবাহী কোষে পৌঁছা মাত্র পেশীতে প্রেরণ করে। ফলে পেশী সংকুচিত হয় এবং যন্ত্রণার উৎস থেকে হাত সরিয়ে দেয়। এসব অনুভূতি মস্তিষ্কেও পৌঁছায়। ফলে কি ঘটেছে তা মস্তিষ্ক জানতে পারে। আমাদের স্পর্শ অনুভূতিটি ত্বকে উপস্থিত স্নায়ু সমাপ্তির নেটওয়ার্ক ও স্পর্শ গ্রাহক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। একে সোমাটোসেন্সরি সিস্টেম (Somatosensory) বলে। এই সিস্টেমটি ঠান্ডা, গরম, মসৃণ, রুক্ষ, চাপ, ব্যাথা প্রভৃতি অনুভূতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। সোমাটোসেন্সরি সিস্টেম চার প্রকার। যথাঃ

১) মেকানোরিসেপ্টর (Mechanoreceptor)

২) থার্মোরিসেপ্টর (Thermoreceptor)

৩) পেইন রিসেপ্টর (pain Receptor)

৪) প্রোপ্রিওসেপ্টর (Proprioceptor)

১) মেকানোরিসেপ্টরঃ এই রিসেপ্টরগুলি চাপ, কম্পন, বস্তুর গঠনের মতো সংবেদনগুলি উপলব্ধি করে। চার ধরনের মেকানোরিসেপ্টর রয়েছে যাদের কাজ হলো ক্ষত ও চাপের মত সংবেদনগুলি উপলব্ধি করা। এগুলি হল মার্কেলের ডিস্ক, মেসনারের কর্পাসল, রুফিনির কর্পাসল, প্যাসিনিয়ান কর্পাসল। সবচেয়ে সংবেদনশীল মেকানোরিসেপ্টর হলো মার্কেলের ডিস্ক ও মেসনারের কর্পাসল। এগুলি ডারমিস ও এপিডার্মিসের একেবারে উপরের স্তরে অবস্থিত। হাতের তালু, ঠোঁট, জিহবা, পায়ের পাতা, আঙুলের ঊর্ধাংশ, চোখের পাতা ও মুখের মত মসৃণ ও প্রায় সকল লোমবিহীন অংশে মার্কেলের ডিস্ক ও মেসনারের কর্পাসল থাকে। আমরা কোন বস্তুকে স্পর্শ করলে তার প্রকৃতি ও কতক্ষণ ধরে তা স্পর্শ করে আছি তা এ দুটি রিসেপ্টর এর মাধ্যমে বোঝা যায়। আমাদের আঙুলিতে প্রচুর পরিমাণে এই দুটি উচ্চ সংবেদনশীল মেকানোরিসেপ্টর থাকে। তাই আমরা যখন কোন বস্তুকে আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করি, তখন আমাদের মস্তিষ্কে ওই বস্তুটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রেরিত হয়।

২) থার্মোরিসেপ্টরঃ ত্বকের ডারমিস স্তরে অবস্থিত এই রিসেপ্টরগুলির মাধ্যমে বস্তুর তাপমাত্রা অনুভূত হয়। থার্মোরিসেপ্টর দুই প্রকার উষ্ণ(hot) রিসেপ্টর এবং শীতল(cold) রিসেপ্টর। ত্বকের উপরিভাগের তাপমাত্রা ৭৭˙F থাকে তখন শীতল রিসেপ্টরগুলি বেশি উদ্দীপ্ত হয় আর ৪১˙F এর নিচে এই রিসেপ্টরগুলি আর উদ্দীপ্ত হতে পারে না। ফলে বেশিক্ষণ ঠান্ডা বা বরফের থাকলে হাত-পা অসাড় হয়ে যায়। ত্বকের উপরিভাগের তাপমাত্রা ৮৬˙F এর বেশি থাকলে উষ্ণ রিসেপ্টরগুলি উদ্দীপ্ত হতে শুরু করে। ১১৩˙F এ সবচেয়ে বেশি উদ্দীপ্ত হয়। ১১৩˙F  উপরে চলে গেলে ব্যথা রিসেপ্টরগুলি উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং শরীরকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। থার্মোরিসেপ্টরগুলি সারাদেহেই ছড়িয়ে থাকে। তবে তুলনামূলক শীতল রিসেপ্টরগুলির ঘনত্ব বেশি থাকে। সারা শরীরের তুলনায় মুখ ও কানে এইগুলি বেশি থাকে, তাই খুব ঠান্ডায় নাক ও কান আগে ঠান্ডা হয়ে যায়।

৩) পেইন রিসেপ্টরঃ এই রিসেপ্টরগুলির বিজ্ঞানসম্মত নাম নসিরিসেপ্টর (Nocireceptor). এই রিসেপ্টরগুলি


ত্বকের ব্যথা উদ্দীপনাগুলি শনাক্ত করে ত্বক ও অন্যান্য টিস্যুগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। শরীরের বিভিন্ন অংশ


জুড়ে যেমন ত্বক, পেশী, হাড়, রক্তনালী ইত্যাদি অংশে ৩০ মিলিয়নেরও বেশি পেইন রিসেপ্টর থাকে। বিভিন্ন যান্ত্রিক উদ্দীপনা(কেটে যাওয়া), তাপীয় উদ্দীপনা(পোড়া), রাসায়নিক উদ্দীপনা(পোকার হুলের বিষ) দ্বারা সৃষ্ট ব্যথা শনাক্ত করতে পারে।

৪) প্রোপ্রিওসেপ্টরঃ ল্যাটিন ভাষায় 'প্রোপ্রিয়াস' শব্দের অর্থ হলো 'একান্ত নিজস্ব'। এই রিসেপ্টরগুলি একে অন্যের সাপেক্ষে ও পার্শ্ববর্তী পরিবেশের সাপেক্ষে শরীরের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করে। টেন্ডন, পেশী, পেশীসন্ধিতে এই রিসেপ্টরগুলি পাওয়া যায়। এই রিসেপ্টরগুলি প্রয়োজনে উদ্দীপ্ত হলে টেন্ডন, পেশী, পেশীসন্ধি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজগুলি করতে সাহায্য করে। যেমন, জামা পড়া, খাওয়া-দাওয়া করা ইত্যাদি। এই প্রোপ্রিওসেপশন এর মাধ্যমে আমরা পায়ের দিকে না তাকিয়ে হাটতে পারি বা না তাকিয়েও অন্যান্য কাজ করতে পারি।

 

আমরা যখন কোন বস্তুকে স্পর্শ করি, তখন ত্বকের মেকানোরিসেপ্টর গুলি উদ্দীপ্ত হয়। পরপর কতগুলো প্রক্রিয়া চলতে থাকে। আমরা বস্তুর যে অংশটি স্পর্শ করে থাকি, সেই অংশের সাথে সংলগ্ন নিউরনগুলিতে প্রথমে সংকেত যায় এবং ঐ সংকেত পরবর্তী নিউরনে স্থানান্তরিত হয়। যতক্ষণ না ওই সিগন্যাল মস্তিষ্কে পৌঁছায় ততক্ষণ পর্যন্ত এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলতে থাকে। মস্তিষ্কে আবার এই সংকেতের বিশ্লেষণ শুরু হয়। বিশ্লেষণ সম্পূর্ণ হলে মস্তিষ্ক উক্ত স্পর্শস্থলকে পরবর্তী কাজের জন্য নির্দেশনা দেয় এবং তখনই আমরা স্পর্শ অনুভূতিটির স্বরূপ ও প্রকৃতি বুঝতে পারি।

স্পর্শানুভূতি অতীব প্রয়োজনীয় অনুভূতি হওয়ায় স্পর্শকেই কাজে লাগিয়ে উদ্ভব ঘটেছে টাচস্ক্রিনের। আবিষ্কার হয়েছে হ্যাপ্টিক প্রযুক্তির, হ্যাপটিক টাচ বা  থ্রিডি টাচ প্রযুক্তির। ফলে স্মার্ট ডিভাইসগুলো আরও আকর্ষনীয় এবং আপন হয়ে উঠেছে।

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হাতে কলমে কাজের মাধ্যমে খাদ্য লবণ ও বালুর মিশ্রণ থেকে উপাদানসমূহ পৃথকীকরণ।

 ( একটি নমুণা মাত্র) পরীক্ষণঃ হাতে কলমে কাজের মাধ্যমে খাদ্য লবণ ও বালুর মিশ্রণ থেকে উপাদানসমূহ পৃথকীকরণ। তত্ত্বঃ বালু ও লবণ মিশ্রিত হয় না। তাই বালি ও লবণের সাথে পানি মিশ্রিত করে দ্রবণ তৈরি করতে হয়। যেহেতু বালি/বালু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এ মিশ্রণ থেকে বালিকে আলাদা করতে পরিস্রাবণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। খাদ্য লবণ সহজেই পানিতে দ্রবীভূত হয় । সুতরাং পরিস্রাবণের পর প্রাপ্ত দ্রবণ থেকে বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় পানি থেকে লবণ পৃথক করা হয়।   প্রয়োজনীয় উপাদানঃ খাদ্য লবণ, বালু, পানি, ফানেল, ফিল্টার পেপার, কনিক্যাল ফ্লাস্ক, বিকার, ত্রিপদী স্ট্যান্ড, স্পিরিট ল্যাম্প, তারজালি, নাড়ানী।   কাজের ধাপঃ             ১. বিকারে লবণ ও বালু নিয়ে পরিমানমত পানি যোগ করে নাড়ানী দিয়ে নাড়তে থাকি। যাতে মিশ্রণ তৈরি হয়।             ২. ফিল্টার পেপার কোনক আকৃতির ভাঁজ দিয়ে ফানেলের মুখে লাগাই। এ ফানেল কনিক্যাল ফ্লাস্কের মুখে দিই          ...

ভালোবাসায় ভালোলাগার গণিত

ভালোবাসায় ভালোলাগার গণিত প্রেমের প্রতীক বা ভালোবাসার প্রতীক হচ্ছে ❤ বা heart shape. যদিও বিজ্ঞানে মন বলতে কিছুই নেই। মস্তিষ্কের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন ইলেকট্রনের স্পন্দনই মানুষের আবেগ, অনুভূতি, চিন্তার উৎস। তারপরেও মানুষ মন বা হৃদয়কেই আবেগ-অনুভূতির উৎস ভেবে নেয়। সাধারণত হৃদয় বা হার্ট বলতে আমরা বুঝি আমাদের হার্ট বা হৃদপিণ্ডকে। ভালবাসার নিদর্শন স্বরূপ যে চিহ্ন তা ♥। তবে কি আসলেই মানুষের হার্ট দেখতে এমন? এক সময় গ্রিক-রোমান চিন্তাবিদগণ মনে করতেন, মানুষের হৃদয় দেখতে ❤ বা লাভ চিহ্ন এর মত। কিন্তু তা মোটেই না। হার্ট শেপ এর প্রচলন কিভাবে হয়, তা গুগোল এ সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। আমরা এই ❤ বা হার্টশেপের গণিত নিয়ে আলোচনা করব। নিম্নোক্ত উপায়ে আমরা গাণিতিকভাবে ❤ পেতে পারি ঘূর্ণায়মান বৃত্ত বা বলের সাহায্যে: বহিঃস্পর্শ করে এমন দুটি সমান ব্যাসার্ধের বৃত্তের একটি স্থির রেখে অন্যটিকে চারদিকে ঘুরিয়ে আনলে যে ক্ষেত্র হয়, তাকে গণিতের ভাষায় কার্ডিয়ড বলে যা অনেকটা হার্ট শেপ এর মত। (চিত্র দ্রষ্টব্য) গুণের নামতা সাহায্যে একটি বৃত্তকে সমান দুভাগে ভাগ করে পাই ০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬,...

এস. এস.সি জীববিজ্ঞান প্রশ্ন দিনাজপুর বোর্ড-২০২১

 এস. এস.সি পদার্থ বিজ্ঞান প্রশ্ন দিনাজপুর বোর্ড-২০২১ ১.৩০ মিনিটের পরীক্ষা। বহুনির্বাচনী ২৫টি হতে ১২ টি। (সময়ঃ ১৫ মিনিট) সৃজনশীল ৮টি হতে ২ টি। (সময়ঃ ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট)